অবসরে গিয়ে এ বৈষম্য আরো বেড়ে দাঁড়ায় ২৪ দশমিক ৫ শতাংশে। ইইউ পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে। বেতন বৈষম্যের পাশাপাশি খণ্ডকালীন চাকরি, মাতৃত্বজনিত কর্মবিরতি ও পরিবারের যত্নে নারীদের অবৈতনিক শ্রমের কারণে অবসরের সময় তাদের আর্থিক বৈষম্য আরো প্রকট হয়ে ওঠে। খবর ইউরো নিউজ।
ইউরোপ মহাদেশে নারী-পুরুষের আয়ের বৈষম্য দীর্ঘদিনের একটি আলোচিত বিষয়। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, চাকরি জীবনে যে বৈষম্য দেখা যায়, অবসরের পর তা আরো গভীর হয়। কর্মজীবনে নারী-পুরুষের বেতনের পার্থক্যের তুলনায় পেনশন বৈষম্য অনেক বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পার্থক্য কেবল বেতনের কারণে তৈরি হয় না। কর্মজীবনের পুরো সময়ের আয়, চাকরির ধরন, কর্মঘণ্টা, পেশা থেকে বিরতি ও সামাজিক দায়িত্ব পালনের মতো বিভিন্ন বিষয় একত্রে পেনশন বৈষম্যকে আরো বড় করে তোলে।
২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের ৩০টি দেশে নারী-পুরুষের বেতন বৈষম্যের হার সবচেয়ে কম লুক্সেমবার্গে। সেখানে নারীরা পুরুষদের তুলনায় দশমিক ৮ শতাংশ বেশি আয় করেন। বেলজিয়ামে এ বৈষম্য দশমিক ৭ শতাংশ, রোমানিয়ায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ ও পোল্যান্ডে ৪ শতাংশ। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি বেতন বৈষম্য রয়েছে এস্তোনিয়ায়, যেখানে নারীরা পুরুষদের তুলনায় ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ কম আয় করেন। এছাড়া চেকিয়া ও অস্ট্রিয়ায়ও এ হার যথাক্রমে ১৮ দশমিক ৫ ও ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ।
ইউরোপের বৃহৎ অর্থনীতিগুলোর মধ্যে জার্মানিতে নারী-পুরুষের বেতন বৈষম্য ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ, যুক্তরাজ্যে ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ, ফ্রান্সে ১১ দশমিক ৮ শতাংশ, স্পেনে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ইতালিতে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ।
তবে অবসরের পেনশনের ক্ষেত্রে চিত্রটি আরো উদ্বেগজনক। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নারীদের পেনশন বৈষম্যের হার ৫ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ৩৮ দশমিক ২ শতাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত। সবচেয়ে বেশি বৈষম্য রয়েছে মাল্টায়, যেখানে নারীরা পুরুষদের তুলনায় ৩৮ দশমিক ২ শতাংশ কম পেনশন পান। যুক্তরাজ্যে এ হার ৩৭ শতাংশ, নেদারল্যান্ডসে ৩৬ দশমিক ৩ শতাংশ এবং অস্ট্রিয়ায় ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ।
জার্মানির হামবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আইরিস কেস্টারনিখের মতে, পেনশন বৈষম্যের পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ কাজ করে। প্রথমত, নারী-পুরুষের বেতনের পার্থক্য। দ্বিতীয়ত, নারীদের খণ্ডকালীন চাকরিতে বেশি অংশগ্রহণ। তৃতীয়ত, সন্তান জন্মদান ও লালন-পালনের কারণে নারীদের কর্মজীবনে বিরতি নেয়ার প্রবণতা।